শাবাশ বাংলাদেশ / শাহবাগ আন্দোলন প্রসঙ্গে

আওয়ামীলীগ ধাপ্পাবাজি করে পড়েছে এক মহা মুষ্কিলে । জনগনের সামনে এরা ধরেছিলো ৭২ এর সংবিধানের মুলা, যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মুলা। গাধার দলের মতো পালে পালে জনগন দেদারসে ভোট দিয়েছে তা নয় তবে সর্বসাকুল্যে এরা ৫ টি বছরের প্রহরার দ্বায় পেয়েছিলো । ৫ বছর যায় নি এর আগেই মানুষের কাছে এদের আসল চরিত্রটি প্রকাশ হয়ে গেলো। অন্যদিকে বি এন পি এই সময়টাতে জনগনের কাছে তাদের যাবতীয় দুর্গন্ধ সহ ধরা পড়ে গেলো । জমাত কোনো রাজনৈতিক দল নয় ,  যুক্তি ও গণতন্ত্রের হিসেবে হতেও পারে না।  তবু ধর্মীয় রাজনীতি আওয়ামীলীগ এখনো নিষিদ্ধ করে নি কেননা এই বিচার হয়ে গেলে ,  দীর্ঘদিন ধরে পুজিবাদের জন্মলগ্নের সাথে সাথে যে বাজার সংকটের জন্ম হয় তাতে যে শ্রেণী বৈষম্য তৈরি হয় তার বিষবাষ্পে অতিষ্ঠ মানুষ তখন ভাত দে – কাপড় দে বলে হুংকার করে উঠে। মানুষ এর ফাঁকে যতোটা  আদায় করতে পারে তাতেই লাভ । আওয়ামীলীগ  , বি এন পি সকলেই শ্রেণী শত্রু । এটা হয়তো বিগত দিনের সস্তা সি পি বি , বাসদ ইত্যাদি রাজনীতির কারণে মানুষ শিখতে পারে নি। মানুষ এখনো শিখছে তা নয় কিন্তু নাকে একটা ঘ্রান এসে ঠিক লাগে , মাথায় চিন্তা ও সন্দেহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে । সিলেটের প্রোপটে যা দেখলাম তাতে আমি খুব আনন্দিত যে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দলটিও পাত্তা পাচ্ছে না।শাহাবাগে তো আরো কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে দেশের মানুষ। যাই হোক যেভাবেই হোক এইসব দলগুলির ডায়ালগ শেষ । ধাপ্পাবাজির আর কোনো যায়গা অবশিষ্ঠ নেই। এই সময়টা মানুষ শেণী সচেতন থাকলে একটা চমৎকার কাজ হত। সে আশা আপাতত সুদূর পরাহত । আপাতত দুই কি ততোধিক শত্রুরা লড়াই করে যতোটা শক্তি য় করে তাতেই লাভ , আম্রা ও আমাদের পরজ তাতে একটু শক্তি পায় । মানুষের সকল শুভ প্রয়াসের জয় হোক ।

কিছু চমৎকার ব্যাপার লক্ষ্য করলাম এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ।

 

১। জনগন আওামিলীগের সংস্লিশঠতা চাইছে না এই আন্দোলনে , ছাত্রলীগের কর্মী এমনকি আওয়ামীলীগ এর নেতা নেত্রীরাও জনগনের বিরাগভাজন হয়েছেন । সি্লেটে ঢাকায় সর্বত্রই একই অবস্থা। মানুষ এদের ঠিক শ্রেণীটি হিসেব কষে না বুঝতে পারলেও একটা অবচেতন ধারণা ঠিক ই লাভ করেছেন।

 

২। এই আন্দোলনে বিগত দিনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির  পর ক্ষমতায় আসার যে সংস্কৃতি এতদিন ছিলো আর তা খুব একটা কাজ করবে না আগামীদিনে।

 

৩। কিছু ব্যাপার আলোচনায় আসছে , এই কথা যে রাস্ট্রধর্ম যদি ইসলাম হয় তবে ধর্মীয় রাজনীতি তো থাকারই কথা , আর ইস্লামের রাজনোইতিক দল না থাকার তো আসলে কোনো যুক্তি নেই । এই বুর্যোয়া দল্টিও সেই প্রতিশ্রুস্তি দিয়েছিলো এই দেশের বঞ্চিত মানুষকে । তারা তাদের শ্রেণীগত চরত্রের কারণেই সেটা পালন করতে পারেনি , পারার কথাও নয়। পারলে প্রকৃত অর্থে দলটি বদলাতে হয়।

 

৪। আওয়ামীলীগ এখন তার কথিত অসাম্প্রদায়িকতার বুলির ফাদে নিজেই পড়ে গেছে, মানুষ যে তাদের চিন্তার চেয়েও বেশি সচেতন এটা তারা খুব দেরীতে বুঝেছে তাই এখন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করা ছাড়া , সংবিধান ৭২ এর টা বলবৎ করা আর সেটা Execute করা ছাড়া আগামী নির্বাচনে তাদের জেতার সম্ভাবনা কমে যায় কেননা মিথ্যাবাদীকে বার বার বিশ্বস করেনা জনগন । সকলকে সর্বদা বোকা বানিয়ে রাখাও অসম্ভব কাজ।

 

৫। এরকম একটা চিন্তা করতে পারে এরা যে অধিকাংশ মানুষ অতকিছু বুঝে না, কিন্তু নিতান্ত মুর্খ লোকটিও রাজাকার চিনে আর যে মধ্যবিত্ত শ্রেণী এই আন্দোলনের অধিকাংশ তারাই আসলে চিন্তার ক্ষেত্রে সমাজকে নেতৃত্ব দেন । এদের চিন্তাটা এইবার স্পষ্ট আর এক যায়গায় সহমতে আসার কারণে সরকারী দলকে এবার খাটতে হবে ।

 

৬। বি এন পি আবোল তাবোল কথা বলে জনগনের আস্থা অনেক হারিয়েছে । মদু ভালো না বলে যদু ভালো তাও কিন্তু নয় কেননা মানুষ যদু মদু দুজনের কাছেই প্রতারিত , পাওনাদার । এই যে চিন্তাটা বোধটা মানুষের পরিষ্কার হয়েছে আগামী দিনের শ্রেণী সংগ্রামে এটা খুব কাজে আসবে। অবশ্য অপদার্থ বামদলগুলো যদি মুক্তিযুদ্ধে যেমন নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে তেমন ভুল যদি আবার না করে ।

 

৭। মানুষ তার খাওয়ার, পরার, পড়ার আর মত প্রকাশের জ্বালায় অতিষ্ঠ। তারপরও একটা মানবিক দাবী নিয়ে দাড়িয়েছে । এই দাবী আদায় হলে পরে পুজিবাদের আসল ব্যার্থতার যায়গায় আগামীদিনে যে লড়াইটা বাধবে তা এইসব পুজির দোসর দলগুলো খুব ভালোই বুঝতে পেরেছে, এরা ভীত তাও নিশ্চিৎ কিন্তু মানুষের যতদিন না একটা সঠিক প্লাটফর্ম তৈরি হচ্ছে ততদিন চুড়ান্ত বিজয় অসম্ভব। তাই তারাও এতো অস্বস্তির মাঝে একটু স্বস্তি পাচ্ছে এই চিন্তা থেকে , সেই স্বস্তিটা বেশিদিন থাকবে তা নয় । ইতিমধ্যে শত মতবিরোধ রেখেও সমাজতন্ত্র , মানুষের প্রকৃত মুক্তির সমাজের লড়াইটা এগিয়ে নিয়ে বাসদ আর সিপিবির মতো দুইটি বড়ো শক্তিশালী বামদল একযায়গায় জড়ো হয়েছে – এইটা খুবই আশার কথা।

 

৮। মোউলবাদীরা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। চালাক, সকল আন্দোলনেই এমন চলেছিলো। যারা আন্দোলে আছেন তারা যে সকলে ভদ্রলোক তা নয় । কথা সেটা নয় কথা হচ্ছে ন্যায্য দাবীতে একজন মুসলমান, হিন্দু, মার্ক্সবাদী, সাবরিয়ালিস্ট, ব্ল্যাক রিয়ালিস্ট — যে যাই হোক , মদখোর হোক আর গাজাখোর হোক – দাবীটি সঠিক । মদখোর তো এই দাবী নিয়ে আসেনি যে তার প্রকাশ্যে মদ গাজা খাওয়ার অধিকার চাইছে না, সে চাইছে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কাজেই এইসব বিভ্রান্তির কোনো যায়গা নেই । সে অন্য অপরাধ, সেটা অন্যত্র আলোচিত হবার বিষয় । আরো বড়ো কথা হল যারা এই দাবী তুলেছিলেন সেই ৯২ এ তিনি শ্রী জাহানারা ইমাম । সকল হৃদয়বান শুভবুদ্ধির মানুষেরই আজ এক দাবী।

 

৯। শাহাবাগের জনস্রোতে সকলের শেখার আছে , বামদলের এই শেখার আছে যে আওয়ামীলীগ যেমন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগনের বিরাগভাজন হয়ে্ছে তেমনি তাদেরও এই রকম কোপে পড়ার সম্ভাবনা আছে। বস্তুত এই আন্দোলন তো তাদেরি দার করানোর কথা ছিলো । আরো একটা শিক্ষা এই যে বিপ্লব মুর্হুতের জন্য যা দরকার তার সবি আছে কেবল একটি বিপ্লবী দল নেই। একথা খালেকুজ্জামান কি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম কেউই এই সেই বলে ধামাচাপা দিতে পারেন না। তারা ব্যার্থ, ব্যর্থ এবং ব্যার্থ।

 

১০। মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর পর দেশের এই বেহাল অবস্থা , সেদিনের কোনো অঙ্গীকারই  রাস্ট্র তার জনগনের ক্ষেত্রে পূরণ করেনি। করেনি কেননা সেটা কেবলি একটা গনবিপ্লব ছিলো এবং সেই বিপ্লবীরা  জানত না কি করে শিক্ষা , চিকিৎসা, অর্থব্যবস্থা হবে। পররাস্ট্রনীতি হবে। শেখ মুজিবুর রহমান যাতে পরবর্তীতে দেশটি গোছাতে না পারেন তার ব্যাবস্থাও করেছিলো বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ। পাকিস্তানীরা দেশের প্রথিযশা মানুষদেকে সরিয়ে দিয়েছিলো , ধর্ষণ , হত্যার চেয়েও যা ছিলো ভয়ানক। তাদের অনুপস্থিতি এতো মারাত্মক যে আজো এই রকম সকল পরিস্থিতিতে আমরা একজোত হতে পারিনি সঠিক চিনাত অভাবে। এই সময় চিন্তক তৈরি হচ্ছেন নতুন করে সেটা আশার , আনন্দের । আনন্দে বুক ভরে ওঠার মতো।

 

১১। একটা খুব চমৎকার কাজ এই হয়েছে যে জামাতকে একটা অর্থনৈইতিক অবরোধের মধ্যে ফেলে দেয়ার স্বিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশের বুদ্ধিমান জনগন । এটা খুব লক্ষ্যণীয় যে মানুষ এই ব্যাপারগুলো বুঝতে পেরেছেন যে পুজিতান্ত্রিক ব্যাবস্থা সবচেয়ে বড়ো অসহযোগ এটাই। যেমন গান্ধীর স্বদেশী আন্দোলনে ব্রিটিশরা অতিষ্ঠ হয়েই আসলে একটা সময় কাথা কম্বল গোটাতে বাধ্য হয়েছিলো । এই চিন্তা রণকৌউশল এমনিতে আসে না, চিন্তক তৈরী হয়েছেন হচ্ছেন এটা এর প্রমাণ । আমাদের সৎ নেতারা জন্মাচ্ছেন ,আন্দোলনই নেতা তোইরী করে , নেতা তৈরী হচ্ছেন এর চেয়ে বড়ো আর কি হতে পারে । আমরা পাবো আরেকজন মুনির চৌধুরী, শহিদুল্লাহ কায়সার । সমগ্র আন্দোলনে যেখানে আমি ব্যাক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি পুলকিত হয়েছি সেটা এই যায়গাটা । আজ হুমায়ুন আজাদকে খুব মনে পড়ছে ।

 

তো প্রিয় দেশের মানুষ। নিজের সামান্য ক্ষমতা নিয়ে বিশাল জনস্রোতে আমি আছি । সকলের সাথে সবকানে একমত নয় যদিও , আজকের এই মহারোণে সঙ্গে আছি । আপনাদের দ্রোহকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।  দানা বেধে উঠুক।এই তো সবেমাত্র শুরুর দিকের সামান্য কয়টা ঘটনা। সামনে আরো লড়াই আছে, সত্রুমিত্র আরো স্পষ্ট হবার আছে ।  জয় বাংলা ! বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক !

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s